৬ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে অক্টোবর ২০২০ ইং| ২রা রবিউল-আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

করোনায় আক্রান্ত ১৮ জন চিকিৎসকের পরিবারকে বিতাড়নের চেষ্টা, বাড়িতে ইট নিক্ষেপ

0

নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই করা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নানা ধরনের হয়রানি চলছে। এবার নারায়াণগঞ্জে এমন ঘটনা ঘটেছে। জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মেডিকেল অফিসারের পরিবারের ১৮ সদস্যের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর তাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বাড়িটি লক্ষ্য করে স্থানীয়রা ইট-পাটকেলও ছুড়েছে বলেও অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করেন।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ডা. শিল্পী আক্তারের ফতুল্লার কুতুবপুরের দেলপাড়া এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এখানেই আইসোলেশনে রয়েছেন পরিবারের ১৮ জন।

ডা. শিল্পী আক্তার বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে কে বা কারা যেন ইট-পাটকেল ছুড়েছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনে জানিয়েছি। থানা পুলিশও এসে ঘুরে গিয়েছে। আমাকে প্রশাসন থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী নিয়মিত এখানে আসা-যাওয়া করবে।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘এমনিতে ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মানসিক অবস্থা ভালো নয়। এখন তাদের সাপোর্ট দরকার। অথচ এলাকাতে হচ্ছে এর উল্টোটা। আমরা এখানকার স্থানীয়। তারপরও এই মানুষগুলো কেন এমন করছে বুঝতে পারছি না। তাছাড়া আমাদের বাড়িটি আগের থেকেই লকডাউন করেছি। কাউকে এখান থেকে বের হতে দেই না। বাইরে থেকেও কেউ ভেতরে আসতে পারে না। তারপরও আমাদের উৎখাতের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ডা. শিল্পী আক্তার আরও বলেন, ‘সবাইকে বাড়িতে রেখে তাদের চিকিৎসা করানো হচ্ছে। অন্য চিকিৎসকরাও এসে দেখে গেছেন। সার্বক্ষণিক আমি এখানে আসা যাওয়া করবো। আবার অফিসিয়াল কাজও করবো। এই বাড়ির লোক বের না হলে ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরও স্থানীয়দের কেউ কেউ হয়তো ভুল বুঝিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে।’

এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ সদরের ইউএনও নাহিদা বারিক ওই এলাকায় গিয়ে উচ্ছৃঙ্খল লোকজনদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি শান্ত করে বাড়িটিকে লকডাউন করেন। এরপর মাইকে এলাকাবাসীকে নিজ নিজ ঘরে থাকার অনুরোধ করে করোনা সম্পর্কে ধারণা দেন ইউএনও।

এ বিষয়ে সদরের ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, ডা. শিল্পী আক্তার নিজেই তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করছেন। তাদের বাসায় সাত বছর বয়সের একটি শিশু ছাড়া ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ইট-পাটকেল ছুড়েছে এমন খবর পাইনি। মানুষ ডিস্টার্ব করছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা সেখানে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

Leave A Reply

thirteen + ten =

shares