৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জুন ২০২১ ইং| ৩রা জিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

করোনা যুদ্ধা চিকিৎসক, নার্স, এম্বুলেন্স চালক, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টকে ভিভিআইপি ঘোষনা করুন।

0

করোনায় দেশ লন্ডভন্ড হবার পথে।  “গরীবের” কথা কেউ শুনতে চায় না। গরীবের কথা কতটা চিন্তায় আনেন কর্তা ব্যক্তিরা তা বুঝাও মুশকিল।   গরীবরে  মাইরা গরীব বানাইয়া  এখন অনেকে পূণ্যকর্ম করার জন্য ফটো সেসন করতে ব্যস্ত।  বলছেন ঘরে থাকুন আবার ঘটা করে শহরের আনাচে কানাচে লাইন করে ‘ফাইন’ করে খাদ্যসামগ্রি দিচ্ছেন। এতে করে আমরা গরীবেরা লাইনটাইন না মেনে  হুমড়ি খেয়ে তা সংগ্রহ করছি। করবনা কেন? আমরাতো ব্যাংকে কাড়িকাড়ি টাকা গরীব মাইরা জমাইতে পারি নাই।  এখন কি খাব। কাল কি খাব। এক মাস দুমাস পর কি খাব- চিস্তায় পাগলপ্রায়। তবে  গরীবের কথা দেরীতে হলেও কাজে লাগে এ জন্য কয়েকটি  গরীবি বয়ান । গরীব বলে ফেলে দিয়েন না কথাগুলো।

১)  আপনারা যারা হ-য-ব-র-ল ভাবে খাদ্য দিচ্ছেন তাতে সমায়িকভাবে লাভ হচ্ছে। আপাদত বাঁচা যাচ্ছে কিন্ত কয়েক দিন পর এভাবে চলতে থাকলে চরম নৈরাজ্যের মধ্যে পড়বেগোটা জাতী।ইতিমধ্যে কোন কোন চতুর চালাকেরা বার বার  ফটো উঠায়ে মাল মেরে দিয়েছে-দিচ্ছে- দিবে এবং মজুদ করবে। কিন্তু প্রকৃত গরীবের দারিদ্রতা ভয়াবহ বেড়ে যাবে পরিনতি হবে হানাহানি মারামারি কাটকাটি লুটপাট, রাহাজানি সকল অসামজিক কাজের ব্যাপক বিস্তার। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বার বার  বলছে করোনার এ দুর্যোগ আরও দীর্ঘায়ীত হবে । বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলছে ৩/ ৪ মাসের মধ্যে  করোনার কারনে ঘরে বন্ধীত্বদের   হাতের জমানো টাকা শেষ হয়ে যাবে এবং  বিশ্বে ৩৬ টি দেশে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে । এ ৩৬ টি দেশের মধ্যে আমরা না পড়লেই ভাগ্য ভাল বলতে হবে। যদিও আমাদের খাদ্য সমস্যা হবে না বলে সরকার বলছে। এ ভাবে আমরা করোনার জন্য প্রস্তুত বলে বলে এখন প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং গড়ে ১০ জন করে মৃত্যু বরন করছে যা আরও অনেক অনেক বাড়বে বলে গরীবের ধারনা যা সামাল দেয়া প্রায় অসম্ভব হবে।  তাই করোনার কারনে   সর্বঅঙ্গে যে ঘা হয়ে গেছে বা হবে  তার জন্য খাদ্য মজুদ ও বন্ঠন বিতরন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী ‘আমাদেরমত’ করে (আমেরিকা বা অন্য কোন দেশের মত নয়) একটি পরিকল্পনা করুন। এখানে  নোবেলজয়ী অর্মত্যসেনের মুল্যবান কথাটি মনে করিয়ে দেই । তিনি বলেছেন খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ হয় না দুর্ভিক্ষ হয় বন্ঠন ব্যবস্থার  জন্য। তিনি আরেকটি কথা বলেছেন  স্বাধীন সাংবাদিকতা থাকলে দুর্র্ভিক্ষ হতে পারে না।

২)  করোনার জন্য প্রথম লাইনের যুদ্ধাদের ( চিকিৎসক, নার্স, এম্বুলেন্স চালক, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, আয়া সুইপার সহ স্বাস্থ্য খাতের সকলকে  অন্ধভাবে অকৃপন  সুবিধা দিতে হবে করোনার আপদ না যাওয়া পর্যন্ত। তাদেরকে ভিভিআইপি মর্যাদা দিতে হবে। এজন্য যা করতে হবে তা নি¤œরুপ-

অ)  যারা সরাসরি একাজে জড়িত তাদেরকে  আগামী ৩/৪ মাসের বেতন ভাতা যাতায়াত ভাতা মেডিকেল ভাতা দ্বিগুন করার ঘোষনা এবং কার্যকরী করার  ব্যবস্থ নিতে হবে।

আ) তাদের পরিবারের জন্য আগামি ২ /৩ মাসের খাদ্যসহ সকল প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহের  গ্যারান্টি দেয়া।

ই)  দুর্যোগ বা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ সেল তৈরী করা যার মাধ্যমে  প্রতিনিয়ত তাদের পারিবারিক সকল সমস্যার  অগ্রাধীকার সমাধান করা এবং  তাদেরকে(প্রথম লাইনের যুদ্ধাদেরকে) সময় সময় অবহিত করা “তুমাদের পরিবার নিরাপদ ও সমস্যামুক্ত আছে।”

ঈ) প্রথম লাইনের যুদ্ধাদের  পরিবারের জন্য কয়েকটি হটলাইন ফোন নং ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা যাতে তারা  সাহায্যের জন্য ফোন করতে পারে।

ক) প্রথম লাইনের যুদ্ধারা  কে কত ঘন্টা অতিরিক্ত কাজ করছে  তার  জন্য তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভেঙ্গে  যাতে না পড়ে তার জন্য  মানসিক সাপোর্ট দেয়া ও   বিশ্রামের ব্যবস্থা করা।

৩) প্রথম লাইনের যুদ্ধাদের সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি করে যুদ্ধে রত রাখতে হবে।

৪) প্রত্যেকটি করোনা আইসোলেসন ও চিকিৎসা কেন্দ্রের ভিতরে  সিসি কেমেরা সংযোজন করতে হবে  যা  মাননীয় প্রধান মন্ত্রী,  দায়ীত্বশীল উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিক এমন কি করোনা আইসোলেসন ভর্তি রোগীর  স্বজনদের দৃষ্টিতে আসে । এতে করোনা আইসোলেসন এর “লাল ঘরে Óকী হচ্ছে – কেমন সেবা পাচ্ছে রোগীরা তা দেখা যায় ও মনিটর করা যায় এবং সমস্যা থাকলে সমাধান বের করা যায়।

৫) গরীবের জন্য আরও ভিআইপি করোনা আইসোলেসন ও চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরী করতে হবে না হয় আমরা গরীবরা ভিআইপিদের জন্য তৈরী হাসপাতাল ভেঙ্গে দিব এবং তোমাদের  সকল সুবিধা ক্ষুধার জ্বালায় গ্রাস করে ফেলবো।  কবি  সুকান্ত   কবিতায়  –ক্ষুধার জ্বালায় পৃথিবীকে গদ্যময় দেখেছেন, পুর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটি হিসাবে দেখেছেন।

 প্রিয় পাঠক, গরীবের মনে অনেক আশা । স্বাদ ক্ষুধা বাসনা বেড়ে গেছে ইদানিং অত্যধিক কিন্তু সাধ্য নাই তাই  দূর হতে  আফসোস করি  যদি —— —-ডাঃ মখলিছউর রহমান।

Leave A Reply

1 × two =

shares