৬ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে অক্টোবর ২০২০ ইং| ২রা রবিউল-আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

০১টি মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

0

গত ০২/১২/২০১৯খ্রিঃ ২০:০৫ ঘটিকায় ওসমানীনগর থানাধীন বুরুঙ্গা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এবং কলারাই সাকিনের মধ্যবর্তী যুগনীঘর বিলে জনৈক জুয়াল উল্লাহর জমিতে একজন অজ্ঞাতনামা নারীর মাথাবিহীন মৃতদেহ পাওয়া যায়। অজ্ঞাতনামা মৃতদেহের পারপাশি^ক অবস্থা বিবেচনায় এসআই(নিরস্ত্র)/ মোঃ সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এজাহার দাখিল করলে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। গত ০৯/১২/২০১৯খ্রি: সময় ১১.৩০ ঘটিকায় অজ্ঞাতনামা নারীর মাথাবিহীন মৃতদেহে সন্নিকটে জনৈক জায়েদ আলীর জমিতে এক নারীর মাথার খুলি পাওয়া যায়। প্রাপ্ত মাথার খুলি মস্তকহীন দেহের কিনা তা পরীক্ষার জন্য এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেটের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে প্রেরণ করা হয়। ইতোমধ্যে নারীর দেহ হতে বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ উদ্ধারের ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ওসমানীনগর সার্কেল ও জনাব মোঃ লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর), সিলেট এর সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। গঠিত কমিটির সদস্যগণ ও ওসমানীনগর থানা পুলিশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ১৬/১২/২০১৯খ্রিঃ ২৩:৫৫ ঘটিকায় ওসমানীনগর থানাধীন নিজ বুরুঙ্গা এলাকা হতে হত্যাকান্ডে জড়িত ওসমানীনগর থানাধীন দক্ষিণ কলারাই (গোয়ালাবাজার) গ্রামের মৃত জিলু মিয়ার পুত্র মোঃ মোজাম্মেল মিয়া @ মুজাম্মিলকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামী অজ্ঞাতনামা নারীকে তার স্ত্রী সন্ধ্যা @ শাহনাজ হিসেবে শনাক্তপূর্বক হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে। আসামী মোঃ মোজাম্মেল মিয়া @ মুজাম্মিল গত ৫/৬ বছর যাবৎ রাজ মিস্ত্রির কাজ করতেন। সন্ধ্যা @ শাহনাজ খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তার পরিবার হতে বের করে দেয়।

পরবর্তীতে আসামীর খালু নুরুল ইসলাম এর বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করলে গত কোরবানীর ঈদে তার সাথে সন্ধ্যা @ শাহনাজ এর পরিচয় হয়। মৃত সন্ধ্যা @ শাহনাজ এর আচার ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে এবং পরকালের কথা ভেবে আসামীর মা ও আত্মীয় স্বজন আসামীকে সন্ধ্যা @ শাহনাজকে বিয়ে করতে বললে সে রাজি হয়ে যায়। তাদের বিয়ের পর কিছুদিন শান্তিতে সংসার চলছিল। সংসার চালানোর জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গায় কাজ খুজঁতে থাকেন। বিয়ের কিছুদিন পর সন্ধ্যা @ শাহনাজ এর আচরনে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আসামীর বাড়িতে তার ছোট ভাই, মা ও কিছু আত্মীয় স্বজনের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কলহ দেখা দেয়। সন্ধ্যা @ শাহনাজকে আসামী তার অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের বাসায় রেখে উপার্জন করে সংসার চালাতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত। এরই মধ্যে মৃত নারীর পরকীয়ার বিষয়টি আসামী জানতে পারেন। গত ৩০/১১/২০১৯খ্রি: দুপুর ০১.০০ঘটিকায় তারা দুজনে সিএনজি যোগে চন্ডীপুল হতে গোয়ালাবাজার এবং সেখান থেকে উনিশমাইল যেতে থাকেন। পুলিশ আসামীকে ধরতে পারে এমন ভয়ে দুজনে উনিশমাইলের একটু আগে শাটকিলা এলাকায় নেমে ধানী জমির মধ্য দিয়ে উনিশমাইলে আসামীর বড় খালা ফুলমতির বাসায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন। আসামী হাতে থাকা ছোট গ্যাস লাইটের আলোতে দুজনে রাস্তা থেকে নেমে হেঁটে প্রায় দশ মিনিট বন্দের পশ্চিম দিকে যান। এরপর দূরে বন্দে টর্চলাইটের আলো দেখে দুজন একটু অপেক্ষা করেন। ঐ সময় মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ মোবাইলও আসামীর সাথে ছিল। এর আগে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ নাম্বারে কয়েকটি কল আসে। আসামী এবং আসামীর স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ একসাথে আছেন তা আসামীর কোন আত্মীয় স্বজন জানতেন না। দুইজন অপেক্ষা করার সময় অন্ধকারে বন্দে আসামীর স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ তাকে দৈহিক মিলন করতে বলে। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজকে ধমক দেন। তখন মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আসামীকে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় গালাগালি করেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ তার স্বামী আসামীকে বলেন যে, বাসায় গেলে মোহনকে বিয়ে করবেন এবং আসামীকে তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আম্মা ডাকাতে বলেন। এতে আসামীর রক্ত উঠে যায়। রাত অনুমান ০১.৩০ঘটিকায় বন্দের আইল দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আসামীর সামনে হাঁটার সময় আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলায় প্যাঁচানো ওড়না জোর করে পিছন দিকে থেকে টানতে থাকেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ হাত পা দিয়ে পিছনে লাথি মারার চেষ্টা করেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলা থেকে গোঙ্গানীর শব্দ বের হয়। আসামী তখন পুনরায় ওড়নাকে আরো একবার প্যাঁচ দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলায় গিট দিয়ে পিছন দিক থেকে শ^াসরোধ করার জন্য জোরে টানতে থাকেন। কিছুক্ষন পর মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ হাত, পা ছুঁড়ে নিস্তেজ হয়ে যান। আসামী দেখতে পান তার স্ত্রী সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ মারা গেছেন। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজকে এই অবস্থায় আইলেরর উপর শুইয়ে দেন। এরপর আসামী ভাবেন মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর লাশ কিভাবে লুকাবেন। যাতে কেউ কোনদিন চিনতে না পারে। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলার ওড়না ছাড়া মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর পড়নের বোরকা, জামা, কাপড়, একটি ছোট ব্যাগ, মোবাইল সহ সবকিছু একসাথে বান্ডেল করে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ উলঙ্গ অবস্থায় রাখেন এবং আসামী তার সব কাপড় পাশে আলাদা করে রেখে বস্তার মধ্যে পড়ে থাকা হাওরের কাদা পানি দিয়ে নিজের মুখ, চুল গায়ে মেখে পাশের উনিশমাইল বাজারের দিকে যেতে থাকেন। আসামীকে যেন কেউ চিনতে না পারে সেই জন্যে আসামীও উলঙ্গ অবস্থায় গ্যাস লাইটের আলোতে বাজারে গিয়ে লুকিয়ে অনেক কষ্টে ওয়ার্কশপ দোকানের বাহিরে পড়ে থাকা একটি চিকন স্টীলের পাত এবং দুইটি সিমেন্টের প্লাষ্টারের টুকরা নিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর লাশের পাশে আসেন। আসামী সিমেষ্টের প্লাষ্টারের শক্ত টুকরা দিয়ে ঘষে ঘষে পাতটিকে ধারালো করতে থাকেন যাতে সেটিকে চাকুর মত ব্যবহার করতে পারেন। আসামী একটি ময়লা কাপড় ঐ পাতে বেধে পেচিয়ে হাতল তৈরী করেন। তার তৈরী ঐ চাকুটি অনুমান ৮/৯ ইঞ্চি লম্বা হবে। চাকুটি নিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলায় জোরে জোরে পোঁচ দিতে থাকেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলার রক্তে জায়গাটি ভেসে যায়। আসামী তার শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে সন্ধ্যার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন করতে চেষ্টা করেন। কিছুক্ষন পর মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর মাথাটি আলাদা হয়ে যায়। আসামী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজের মাথাটি নিয়ে নাক ও দুটি কান কেটে পৃথক করে তা অনেক দুরে ছুঁড়ে মারেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর মাথাটি অনুমান দশ হাত দূরে কাদার মধ্যে গর্ত করে তাতে চাপা দিয়ে উপরে মাটি দিয়ে দেন। এরপর আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর দুটি স্তন কেটে তা দূরে ফেলেন এবং উরুর মধ্যে চাকু দিয়ে অনেকবার পোঁচ দেন, চাকু দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর পেটে অনেকবার কোপ ও ঘাই দেন। এরপর লাশটিকে টেলে সামান্য দুরে উচু আইলের পাশে নিয়ে আবর্জনা পঁচা ফেনা, কাদামাটি দিয়ে ঢেকে দেন। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর ওড়না, কাপড়, চোপড় আলাদা বান্ডিল করে চাকুসহ অন্ধকারে পশ্চিম কলারাই নিজ গ্রামে চলে যান। পশ্চিম কলারাই গ্রামের দক্ষিণ মাথায় নাটকিলা নদীর পাড়ে গিয়ে চাকুটি নদীতে ছুঁড়ে ফেলেন। এরপর নদীতে গোসল করে জামা কাপড় পড়ে পাশের ইটভাটার জলন্ত চুল্লিতে লুকিয়ে সাবধানে সন্ধ্যার জামা কাপড়, মোবাইল সহ সব কিছুর বান্ডেল চুল্লিতে ফেলে জ¦ালিয়ে দেন। আসামী গোপনে সেখান থেকে চলে আসেন এবং ভাগলপুর নির্জন রাস্তায় প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেন। ফজরের আযানের পর তিনি রাস্তায় উঠে শ্যামলী বাস যোগে সিলেটে খালা হোসনা বেগমের বাসায় যান। আসামী তার চাচা জয়নালকে সকালে ফোন দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে এবং আসামীর সাথে তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আগের দিন থেকে যোগাযোগ নেই বলে জানান। আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
গত ০২/১২/২০১৯খ্রিঃ ২০:০৫ ঘটিকায় ওসমানীনগর থানাধীন বুরুঙ্গা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এবং কলারাই সাকিনের মধ্যবর্তী যুগনীঘর বিলে জনৈক জুয়াল উল্লাহর জমিতে একজন অজ্ঞাতনামা নারীর মাথাবিহীন মৃতদেহ পাওয়া যায়। অজ্ঞাতনামা মৃতদেহের পারপাশি^ক অবস্থা বিবেচনায় এসআই(নিরস্ত্র)/ মোঃ সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এজাহার দাখিল করলে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। গত ০৯/১২/২০১৯খ্রি: সময় ১১.৩০ ঘটিকায় অজ্ঞাতনামা নারীর মাথাবিহীন মৃতদেহে সন্নিকটে জনৈক জায়েদ আলীর জমিতে এক নারীর মাথার খুলি পাওয়া যায়। প্রাপ্ত মাথার খুলি মস্তকহীন দেহের কিনা তা পরীক্ষার জন্য এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেটের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে প্রেরণ করা হয়। ইতোমধ্যে নারীর দেহ হতে বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ উদ্ধারের ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ওসমানীনগর সার্কেল ও জনাব মোঃ লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর), সিলেট এর সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। গঠিত কমিটির সদস্যগণ ও ওসমানীনগর থানা পুলিশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ১৬/১২/২০১৯খ্রিঃ ২৩:৫৫ ঘটিকায় ওসমানীনগর থানাধীন নিজ বুরুঙ্গা এলাকা হতে হত্যাকান্ডে জড়িত ওসমানীনগর থানাধীন দক্ষিণ কলারাই (গোয়ালাবাজার) গ্রামের মৃত জিলু মিয়ার পুত্র মোঃ মোজাম্মেল মিয়া @ মুজাম্মিলকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামী অজ্ঞাতনামা নারীকে তার স্ত্রী সন্ধ্যা @ শাহনাজ হিসেবে শনাক্তপূর্বক হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে। আসামী মোঃ মোজাম্মেল মিয়া @ মুজাম্মিল গত ৫/৬ বছর যাবৎ রাজ মিস্ত্রির কাজ করতেন। সন্ধ্যা @ শাহনাজ খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তার পরিবার হতে বের করে দেয়।

পরবর্তীতে আসামীর খালু নুরুল ইসলাম এর বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করলে গত কোরবানীর ঈদে তার সাথে সন্ধ্যা @ শাহনাজ এর পরিচয় হয়। মৃত সন্ধ্যা @ শাহনাজ এর আচার ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে এবং পরকালের কথা ভেবে আসামীর মা ও আত্মীয় স্বজন আসামীকে সন্ধ্যা @ শাহনাজকে বিয়ে করতে বললে সে রাজি হয়ে যায়। তাদের বিয়ের পর কিছুদিন শান্তিতে সংসার চলছিল। সংসার চালানোর জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গায় কাজ খুজঁতে থাকেন। বিয়ের কিছুদিন পর সন্ধ্যা @ শাহনাজ এর আচরনে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আসামীর বাড়িতে তার ছোট ভাই, মা ও কিছু আত্মীয় স্বজনের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কলহ দেখা দেয়। সন্ধ্যা @ শাহনাজকে আসামী তার অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের বাসায় রেখে উপার্জন করে সংসার চালাতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত। এরই মধ্যে মৃত নারীর পরকীয়ার বিষয়টি আসামী জানতে পারেন। গত ৩০/১১/২০১৯খ্রি: দুপুর ০১.০০ঘটিকায় তারা দুজনে সিএনজি যোগে চন্ডীপুল হতে গোয়ালাবাজার এবং সেখান থেকে উনিশমাইল যেতে থাকেন। পুলিশ আসামীকে ধরতে পারে এমন ভয়ে দুজনে উনিশমাইলের একটু আগে শাটকিলা এলাকায় নেমে ধানী জমির মধ্য দিয়ে উনিশমাইলে আসামীর বড় খালা ফুলমতির বাসায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন। আসামী হাতে থাকা ছোট গ্যাস লাইটের আলোতে দুজনে রাস্তা থেকে নেমে হেঁটে প্রায় দশ মিনিট বন্দের পশ্চিম দিকে যান। এরপর দূরে বন্দে টর্চলাইটের আলো দেখে দুজন একটু অপেক্ষা করেন। ঐ সময় মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ মোবাইলও আসামীর সাথে ছিল। এর আগে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ নাম্বারে কয়েকটি কল আসে। আসামী এবং আসামীর স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ একসাথে আছেন তা আসামীর কোন আত্মীয় স্বজন জানতেন না। দুইজন অপেক্ষা করার সময় অন্ধকারে বন্দে আসামীর স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ তাকে দৈহিক মিলন করতে বলে। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজকে ধমক দেন। তখন মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আসামীকে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় গালাগালি করেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ তার স্বামী আসামীকে বলেন যে, বাসায় গেলে মোহনকে বিয়ে করবেন এবং আসামীকে তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আম্মা ডাকাতে বলেন। এতে আসামীর রক্ত উঠে যায়। রাত অনুমান ০১.৩০ঘটিকায় বন্দের আইল দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আসামীর সামনে হাঁটার সময় আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলায় প্যাঁচানো ওড়না জোর করে পিছন দিকে থেকে টানতে থাকেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ হাত পা দিয়ে পিছনে লাথি মারার চেষ্টা করেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলা থেকে গোঙ্গানীর শব্দ বের হয়। আসামী তখন পুনরায় ওড়নাকে আরো একবার প্যাঁচ দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলায় গিট দিয়ে পিছন দিক থেকে শ^াসরোধ করার জন্য জোরে টানতে থাকেন। কিছুক্ষন পর মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ হাত, পা ছুঁড়ে নিস্তেজ হয়ে যান। আসামী দেখতে পান তার স্ত্রী সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ মারা গেছেন। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজকে এই অবস্থায় আইলেরর উপর শুইয়ে দেন। এরপর আসামী ভাবেন মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর লাশ কিভাবে লুকাবেন। যাতে কেউ কোনদিন চিনতে না পারে। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলার ওড়না ছাড়া মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর পড়নের বোরকা, জামা, কাপড়, একটি ছোট ব্যাগ, মোবাইল সহ সবকিছু একসাথে বান্ডেল করে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ উলঙ্গ অবস্থায় রাখেন এবং আসামী তার সব কাপড় পাশে আলাদা করে রেখে বস্তার মধ্যে পড়ে থাকা হাওরের কাদা পানি দিয়ে নিজের মুখ, চুল গায়ে মেখে পাশের উনিশমাইল বাজারের দিকে যেতে থাকেন। আসামীকে যেন কেউ চিনতে না পারে সেই জন্যে আসামীও উলঙ্গ অবস্থায় গ্যাস লাইটের আলোতে বাজারে গিয়ে লুকিয়ে অনেক কষ্টে ওয়ার্কশপ দোকানের বাহিরে পড়ে থাকা একটি চিকন স্টীলের পাত এবং দুইটি সিমেন্টের প্লাষ্টারের টুকরা নিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর লাশের পাশে আসেন। আসামী সিমেষ্টের প্লাষ্টারের শক্ত টুকরা দিয়ে ঘষে ঘষে পাতটিকে ধারালো করতে থাকেন যাতে সেটিকে চাকুর মত ব্যবহার করতে পারেন। আসামী একটি ময়লা কাপড় ঐ পাতে বেধে পেচিয়ে হাতল তৈরী করেন। তার তৈরী ঐ চাকুটি অনুমান ৮/৯ ইঞ্চি লম্বা হবে। চাকুটি নিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলায় জোরে জোরে পোঁচ দিতে থাকেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর গলার রক্তে জায়গাটি ভেসে যায়। আসামী তার শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে সন্ধ্যার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন করতে চেষ্টা করেন। কিছুক্ষন পর মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর মাথাটি আলাদা হয়ে যায়। আসামী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজের মাথাটি নিয়ে নাক ও দুটি কান কেটে পৃথক করে তা অনেক দুরে ছুঁড়ে মারেন। মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর মাথাটি অনুমান দশ হাত দূরে কাদার মধ্যে গর্ত করে তাতে চাপা দিয়ে উপরে মাটি দিয়ে দেন। এরপর আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর দুটি স্তন কেটে তা দূরে ফেলেন এবং উরুর মধ্যে চাকু দিয়ে অনেকবার পোঁচ দেন, চাকু দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর পেটে অনেকবার কোপ ও ঘাই দেন। এরপর লাশটিকে টেলে সামান্য দুরে উচু আইলের পাশে নিয়ে আবর্জনা পঁচা ফেনা, কাদামাটি দিয়ে ঢেকে দেন। আসামী তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর ওড়না, কাপড়, চোপড় আলাদা বান্ডিল করে চাকুসহ অন্ধকারে পশ্চিম কলারাই নিজ গ্রামে চলে যান। পশ্চিম কলারাই গ্রামের দক্ষিণ মাথায় নাটকিলা নদীর পাড়ে গিয়ে চাকুটি নদীতে ছুঁড়ে ফেলেন। এরপর নদীতে গোসল করে জামা কাপড় পড়ে পাশের ইটভাটার জলন্ত চুল্লিতে লুকিয়ে সাবধানে সন্ধ্যার জামা কাপড়, মোবাইল সহ সব কিছুর বান্ডেল চুল্লিতে ফেলে জ¦ালিয়ে দেন। আসামী গোপনে সেখান থেকে চলে আসেন এবং ভাগলপুর নির্জন রাস্তায় প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেন। ফজরের আযানের পর তিনি রাস্তায় উঠে শ্যামলী বাস যোগে সিলেটে খালা হোসনা বেগমের বাসায় যান। আসামী তার চাচা জয়নালকে সকালে ফোন দিয়ে মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ এর বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে এবং আসামীর সাথে তার স্ত্রী মৃত সন্ধ্যা প্রকাশ শাহনাজ আগের দিন থেকে যোগাযোগ নেই বলে জানান। আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

Leave A Reply

3 × five =

shares